বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS)

বাংলাদেশের স্বর্ণ শিল্পের অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা

বাজুস (BAJUS) কি?

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS) হলো বাংলাদেশের স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যবসায়ীদের একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী এবং প্রাচীনতম জাতীয় সংগঠন। ১৯৬৬ সালের ১৭ জুলাই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দেশের ৪৯১টি উপজেলায় প্রায় ৪০,০০০ এরও বেশি জুয়েলারি শপ এই সংগঠনের সদস্য। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: bajus.org

বাজুসের প্রধান কাজ হলো দেশের স্বর্ণ শিল্পের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সোনার দাম নির্ধারণ করা।

বাজুসের বর্তমান নেতৃত্ব

বর্তমানে বাজুসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এনামুল হক খান (২০২৫-২০২৭ মেয়াদ)। তার নেতৃত্বে ৩৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী কার্যনির্বাহী কমিটি দেশের স্বর্ণ শিল্পের আধুনিকায়ন ও রফতানি মুখীকরণ করতে কাজ করে যাচ্ছে।

⚖️

স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ

আন্তর্জাতিক বাজার দর এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাজুস নিয়মিত সোনার দাম (BAJUS Gold Rate) আপডেট করে, যা বাংলাদেশের সকল জুয়েলার্সকে মেনে চলতে হয়। এটি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।

🛡️

ভোক্তা অধিকার ও মান নিয়ন্ত্রণ

সঠিক মানের ক্যাডমিয়াম বা পিওর গোল্ড নিশ্চিত করা এবং ক্রেতাদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করা বাজুসের অন্যতম দায়িত্ব। তারা নিয়মিত জুয়েলারি শপগুলোতে তদারকি করে স্বর্ণের মান নিশ্চিত করে।

🏗️

গোল্ড রিফাইনারি প্রজেক্ট

বাংলাদেশকে একটি স্বর্ণ রফতানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং স্থানীয় চাহিদা মেটাতে বাজুস দেশে অত্যাধুনিক গোল্ড রিফাইনারি স্থাপনের জন্য সরকারকে নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে।

কিভাবে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়?

বাজুস সাধারণত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সোনার দাম নির্ধারণ করে:

  1. আন্তর্জাতিক বাজার দর: বিশ্ববাজারে সোনার দাম (Spot Gold Price) বাড়লে বা কমলে তার প্রভাব দেশের বাজারে পড়ে।
  2. টাকার মান: ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে গেলে সোনার আমদানি খরচ বেড়ে যায়, ফলে দাম বাড়ে।
  3. স্থানীয় চাহিদা ও যোগান: দেশের ভেতরে সোনার চাহিদা এবং তেজাবি সোনার যোগানের ওপর ভিত্তি করেও দাম সমন্বয় করা হয়।

কেন বাজুস সদস্যের কাছ থেকে সোনা কিনবেন?

আপনি যখন কোনো জুয়েলারি দোকান থেকে সোনা বা রুপার গয়না কিনবেন, তখন সেটি 'BAJUS Member' কিনা তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এর সুবিধাগুলো হলো:

  • সঠিক ওজন ও মান: বাজুস সদস্য দোকানগুলো নির্ধারিত ক্যারেট (১৮K, ২১K বা ২২K) এবং ওজন প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
  • হলমার্ক গ্যারান্টি: প্রতিটি গয়নায় হলমার্ক স্ট্যাম্পিং আছে কিনা তা বাজুস কঠোরভাবে তদারকি করে।
  • ন্যায্য বিনিময় হার: পুরনো সোনা বিক্রি বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাজুস নির্ধারিত বায়-ব্যাক নীতিমালা অনুসরণ করা হয়, ফলে ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হন না।
  • আইনি সুরক্ষা: কোনো অভিযোগ থাকলে বাজুস তা তদন্ত করে ক্রেতাকে সহায়তা করে।

বাজুসের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

সংগঠনটি বর্তমানে বাংলাদেশকে বিশ্বের স্বর্ণ বাজারের অন্যতম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের লক্ষ্য হলো:

  1. স্বর্ণ রফতানি: তৈরি পোশাক শিল্পের মতো স্বর্ণকেও দেশের প্রধান রফতানি পণ্য হিসেবে গড়ে তোলা।
  2. ভ্যাট হ্রাস: বর্তমানে ৫% ভ্যাট ও অন্যান্য শুল্ক কমিয়ে স্বর্ণ ব্যবসাকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করার জন্য সরকারের সাথে আলোচনা করা।
  3. দক্ষ কারিগর তৈরি: বাংলাদেশের জুয়েলারি কারিগরদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. বাজুস কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

বাজুস ১৯৬৬ সালের ১৭ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালে এটি তার ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছে।

২. বাজুস কি সরকারি প্রতিষ্ঠান?

না, বাজুস একটি অলাভজনক জাতীয় বাণিজ্য সংগঠন যা টিও লাইসেন্সের অধীনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এফবিসিসিআই (FBCCI) এর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে।

৩. সোনার দাম কেন প্রায়ই পরিবর্তন হয়?

আন্তর্জাতিক বাজারে গোল্ড স্পট প্রাইসের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাজুস দাম পুনর্নিরধারণ করে।

লাইভ আপডেট জানুন

বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত আজকের সর্বশেষ সোনার দাম একনজরে দেখুন।

আজকের সোনার দাম দেখুন ➠