চিত্র: বিগত ১০ বছরে ২২ ক্যারেট সোনার দামের পরিবর্তনের গ্রাফিকাল রিপোর্ট (ভরি প্রতি)।
| সময়কাল | ২২ ক্যারেট | ২১ ক্যারেট | ১৮ ক্যারেট | সনাতন |
|---|---|---|---|---|
| ৭ দিন | ▲ ৳২,১৫৮ (০.৯%) | ▲ ৳২,০৯৯ (০.৯%) | ▲ ৳১,৮০৮ (০.৯%) | ▲ ৳১,৪৫৮ (০.৯%) |
| ১৫ দিন | ▼ ৳৬,৫৯০ (২.৭%) | ▼ ৳৬,২৪১ (২.৭%) | ▼ ৳৫,৩৬৬ (২.৭%) | ▼ ৳৪,৩৭৪ (২.৭%) |
| ৩০ দিন | ▼ ৳৮,৮০৬ (৩.৬%) | ▼ ৳৮,৩৪০ (৩.৫%) | ▼ ৳৭,১৭৩ (৩.৬%) | ▼ ৳৫,৮৩২ (৩.৫%) |
| ৬০ দিন (২ মাস) | ▼ ৳৩,৩২৪ (১.৪%) | ▼ ৳৩,০৯১ (১.৩%) | ▼ ৳২,৬৮৩ (১.৪%) | ▼ ৳২,১৫৮ (১.৩%) |
| ১০০ দিন | ▼ ৳২২,৯১৯ (৮.৮%) | ▼ ৳২১,৮১২ (৮.৮%) | ▼ ৳১৮,৭২১ (৮.৮%) | ▼ ৳১৬,০৯৬ (৯.২%) |
| ৬ মাস | ▲ ৳২৯,৯৫৪ (১৪.৪%) | ▲ ৳২৮,৬৩৫ (১৪.৪%) | ▲ ৳২৪,৫২৯ (১৪.৪%) | ▲ ৳১৭,০৪১ (১২.০%) |
| ৯ মাস | ▲ ৳৬৫,৪৭০ (৩৭.৯%) | ▲ ৳৬২,৫৩০ (৩৭.৯%) | ▲ ৳৫৩,৫৮৪ (৩৭.৯%) | ▲ ৳৪১,৮৩৯ (৩৫.৮%) |
| ১ বছর | ▲ ৳৬৮,২০০ (৪০.১%) | ▲ ৳৬৫,১৩১ (৪০.২%) | ▲ ৳৫৫,৮২৪ (৪০.২%) | ▲ ৳৪৩,৭৪০ (৩৮.১%) |
| ২ বছর | ▲ ৳১,১৯,৬৬১ (১০১.০%) | ▲ ৳১,১৪,২৪৯ (১০১.০%) | ▲ ৳৯৭,৯১৯ (১০১.০%) | ▲ ৳৭৮,৫৫৭ (৯৮.০%) |
| ৫ বছর | ▲ ৳১,৬৪,৬৩৮ (২২৪.০%) | ▲ ৳১,৫৬,৯৯৭ (২২৩.২%) | ▲ ৳১,৩৩,২৬১ (২১৬.৪%) | ▲ ৳১,০৭,৪২৬ (২০৯.৬%) |
| ৮ বছর | ▲ ৳১,৮৭,১৪৯ (৩৬৭.২%) | ▲ ৳১,৭৮,৬৩৪ (৩৬৬.৮%) | ▲ ৳১,৫১,২২৪ (৩৪৬.৭%) | ▲ ৳১,৩২,২৭০ (৫০০.৭%) |
| ১০ বছর | ▲ ৳১,৯০,৭০৭ (৪০২.২%) | ▲ ৳১,৮২,০১৬ (৪০১.৭%) | ▲ ৳১,৫৬,১৮১ (৪০৩.৯%) | ▲ ৳১,৩১,১০৪ (৪৭৫.৩%) |
| ১৫ বছর | ▲ ৳১,৮৯,৭১৫ (৩৯১.৯%) | ▲ ৳১,৮১,০৮৩ (৩৯১.৫%) | ▲ ৳১,৫৩,৬১৫ (৩৭২.৬%) | ▲ ৳১,২৭,১৯৬ (৪০৩.৯%) |
বছরভিত্তিক সোনার দামের পরিবর্তন, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দরের ইতিহাস দেখতে আমাদের ডেডিকেটেড বার্ষিক রিপোর্ট পেজ ভিজিট করুন।
বিস্তারিত বার্ষিক রিপোর্ট দেখুন ➜বাংলাদেশে স্বর্ণের সঠিক দামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এটি সময়ের সাথে সাথে নির্ভরযোগ্য সম্পদের মর্যাদা বজায় রেখেছে। বিগত এক দশকে বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি প্রায় ৪২,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৬০,০০০ টাকার ওপরে পৌঁছেছে। এই অভাবনীয় বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করেছে। Historical Price Data বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান হ্রাস পাওয়া হলো এই দাম বাড়ার মূল কারণ।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় স্বর্ণের দাম ছিল অবিশ্বাস্য রকমের সাশ্রয়ী। সেই সময় ১ ভরি ভালো মানের সোনার দাম ছিল মাত্র কয়েকশ টাকা। আশি এবং নব্বইয়ের দশকে দাম ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করলেও তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই ছিল। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশের জুয়লারি শিল্পের অভিভাবক সংগঠন BAJUS তখন থেকেই নিয়মিত দর নির্ধারণ ও বাজার তদারকি করতে শুরু করে।
২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সোনার দামের ট্রেন্ড লক্ষ্য করলে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাঁক দেখতে পাই:
একজন স্মার্ট বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনাকে জানতে হবে স্বর্ণ অন্যান্য অ্যাসেট ক্লাসের তুলনায় কেমন পারফর্ম করেছে:
অনেকেই প্রশ্ন করেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে বাংলাদেশে কেন সাথে সাথে কমে না। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
অর্থনীতিবিদদের মতে স্বর্ণ হলো 'Inflation Hedge'। এর অর্থ হলো যখন সাধারণ নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয় এবং মুদ্রার মান কমে যায়, তখন স্বর্ণ ঢাল হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে গত ১০ বছরে যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে স্বর্ণের দামও বেড়েছে। একারণেই বিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফোলিও'র অন্তত ১০-১৫% স্বর্ণে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন।
ইতিহাসে প্রথমবারের মত ২০২৪ সালে যখন স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অতিক্রম করে, তখন এটি বড় সংবাদে পরিণত হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে আমরা দেখছি দাম ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এটি বাংলাদেশের জুয়লারি ইতিহাসের সবচাইতে বড় 'Bull Run'। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী ভবিষ্যতে দাম ৩ লাখ টাকার ঘর স্পর্শ করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশে স্বর্ণ প্রায় ৫০০% এর বেশি লাভ দিয়েছে। অর্থাৎ ১০ বছর আগে ১ লাখ টাকার সোনা কিনলে আজ তার মূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি।
আন্তর্জাতিক দর 'Troy Ounce' ও ডলারে থাকে। বাংলাদেশে দাম নির্ধারণের সময় সরকারি শুল্ক, মেকিং চার্জ, এবং ডলারের স্থানীয় কার্ব রেট (Local Rate) যোগ করা হয়, তাই এটি ভিন্ন হয়।
অর্থনৈতিক পরিভাষায় একে 'মার্কেট কারেকশন' বলা হয়। বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত হলে এবং ডলারের দাম কমলে সাময়িকভাবে দাম ১০-১৫% কমতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে দাম কমার ইতিহাস খুব একটা নেই।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর ১ ভরি সোনার দাম ছিল মাত্র ১৬০-২০০ টাকা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এটি ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় পৌঁছায়। আজ সেই স্বর্ণ ৩ লাখের দ্বারপ্রান্তে।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে অক্টোবর-নভেম্বর এবং মে-জুন মাসে চাহিদা বেশি থাকার কারণে দাম কিছুটা চড়া থাকে। বর্ষার মরসুমে অনেক সময় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকে।
স্বর্ণ হলো একমাত্র অ্যাসেট যা পুরাতন হলেও এর চাহিদা কমে না। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে যারা সোনা কিনে ধরে রেখেছেন, তারা মুদ্রাস্ফীতির ঢেউ থেকে নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে পেরেছেন।
হ্যাঁ, স্বাধীনতার পর থেকেই বাজুস বাংলাদেশের স্বর্ণ কারবারীদের ঐক্যবদ্ধ করে আসছে। তবে গত ২ দশকে তারা অনেক বেশি কাঠামোগত এবং আধুনিক উপায়ে দাম নির্ধারণ করছে।