চিত্র: বিগত ১০ বছরে ২২ ক্যারেট রুপার দামের পরিবর্তনের গ্রাফিকাল রিপোর্ট (ভরি প্রতি)।
বছরভিত্তিক রুপার দামের পরিবর্তন এবং বিস্তারিত ডেটা দেখতে আমাদের ডেডিকেটেড বার্ষিক রিপোর্ট পেজ ভিজিট করুন।
বিস্তারিত বার্ষিক রিপোর্ট দেখুন ➜রুপা বা সিলভার (Silver) বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের চেয়ে অনেক কম মূল্যের হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ব্যবহারিক বহুমুখিতা অপরিসীম। বিগত কয়েক দশকে রুপার দামের গ্রাফ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটি ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ২০১৩-১৪ সালের দিকে রুপার দাম যেখানে প্রতি ভরি ১০০০ টাকার নিচে ছিল, তা বর্তমানে ৬০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আজকের সঠিক দাম জানতে আমাদের Today Silver Price ভিজিট করতে পারেন। এই অভাবনীয় বৃদ্ধির পেছনে কেবল স্থানীয় চাহিদা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির Industrial Demand ও Geopolitical Shifts বড় ভূমিকা পালন করেছে।
গত ২ বছরে সোনার দাম যেখানে বেড়েছে প্রায় ১০০%, রুপার দাম সেখানে বেড়েছে ২০০% এর বেশি। এর মূল কারণ হলো সৌর বিদ্যুৎ (Solar Energy) ও ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতিতে রুপার বিপুল ব্যবহার। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিমান্ড বাড়ার কারণে রুপার স্টক কমে আসছে, যা দাম বৃদ্ধির বড় প্রভাবক।
বহু শতাব্দী আগে থেকেই বাংলার এই অঞ্চলে রুপাকে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। মুঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসন আমল পর্যন্ত রুপার কয়েন বা 'টাকা' ছিল মূল মুদ্রা। পরবর্তীতে কাগজের মুদ্রার প্রচলন শুরু হলেও রুপার অন্তর্নিহিত মান কমেনি। বর্তমান আধুনিক অর্থব্যবস্থায় রুপাকে 'গরিবের সোনা' (Poor Man's Gold) বলা হলেও এর বিনিয়োগ সম্ভাবনা অনেক সময় স্বর্ণকেও ছাড়িয়ে যায়।
২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রুপার দামের ট্রেন্ড লক্ষ্য করলে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখতে পাই:
বিগত ১০ বছরে রুপা প্রায় ৫৫০% এর বেশি রিটার্ন দিয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে গোল্ডের চেয়েও বেশি।
ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সোলার প্যানেল শিল্পে রুপার অতিরিক্ত চাহিদাই মূল কারণ। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিমান্ড বাড়ার ফলে রুপার সাপ্লাই কমে আসছে।
স্বল্পমেয়াদে রুপা সোনার চেয়ে বেশি রিটার্ন দিতে পারে, কিন্তু রুপার দামের volatility (অস্থিরতা) বেশি। পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যের জন্য উভয়ই রাখা উচিত।
রুপার দাম সোনার তুলনায় অনেক কম, তাই অল্প পুঁজিতে শুরু করা যায়। এছাড়া শিল্প চাহিদা বাড়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন আশা করা যায়।
BAJUS নির্ধারিত দামে সারাদেশের লাইসেন্সধারী জুয়েলারি দোকানে রুপা কেনা-বেচা করা যায়। অনলাইনেও কিছু বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী সোলার প্যানেল উৎপাদনে ব্যবহৃত রুপার পরিমাণ প্রতি বছর ১৫-২০% হারে বাড়ছে। এটি রুপার দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।